মানিয়ে নেওয়া
আপনি অন্যজনের প্রয়োজনকে আগে রাখেন, আর সম্পর্কের উষ্ণতা ধরে রাখতে ছাড় দেন।
আপনার ফলাফল
এটা কী
মানিয়ে নেওয়া মানে নিজের চাওয়া সরিয়ে রাখা, যাতে অন্যজন যা চায় তা পায়। এতে অন্যের চাওয়ায় সাড়া বেশি, নিজের দাবিতে দৃঢ়তা কম: আপনি সাহায্য করেন, রাজি হন, খাপ খাইয়ে নেন বা দুঃখপ্রকাশ করেন, আর দ্বন্দ্ব শেষ হয় কারণ আপনি শেষ হতে দেন। এটা প্রায়ই আসে সত্যিকারের যত্ন থেকে। অন্যদের কী দরকার আপনি খেয়াল করেন, সম্প্রীতিকে মূল্য দেন, আর ভালো সম্পর্কের জন্য ছোট একটা ত্যাগকে ন্যায্য দাম মনে হয়। কখনো এটা বাস্তব বিবেচনাও: ফলাফলটা নিয়ে হয়তো অন্যজনের চেয়ে আপনার মাথাব্যথা কম। যাঁরা প্রথমেই মানিয়ে নেওয়ার দিকে ঝোঁকেন, অন্যরা প্রায়ই তাঁদের ওপর ভরসা করে, আর মতভেদের পর সম্পর্ক জোড়া লাগাতে তাঁরাই সাধারণত প্রথমে এগিয়ে আসেন।
শুনতে কেমন
ঠিক আছে, আপনার মতো করেই হোক।
সমস্যা নেই, ওটা আমি নিয়ে নিচ্ছি।
আপনিই ঠিক, ব্যাপারটা আমার আগেই ভাবা উচিত ছিল।
কোথায় কাজে লাগে
বিষয়টা যখন আপনার চেয়ে অন্যজনের কাছে অনেক বেশি জরুরি, তখন মানিয়ে নেওয়াই ঠিক সিদ্ধান্ত। তখন ছাড় দিলে আপনার খরচ সামান্য, আর অন্যজন পায় অনেক। যখন বোঝেন আপনিই ভুল, তখনও এটা বুদ্ধিমানের কাজ: দুর্বল অবস্থান আঁকড়ে থাকার চেয়ে দ্রুত মেনে নেওয়া বেশি সম্মান আনে। এতে এমন সদিচ্ছা জমে, যা পরে কাজে লাগানো যায়, আর যে ছোট ছোট মতভেদ নইলে সম্পর্ক ক্ষইয়ে দিত, তার মধ্যেও সম্পর্কটা উষ্ণ থাকে। কেউ মন খারাপ করে থাকলে উদার একটা প্রতিক্রিয়া যেকোনো যুক্তির চেয়ে দ্রুত উত্তাপ কমাতে পারে। পরিবার, বন্ধুত্ব আর টিম, সবই টিকে থাকে এমন মানুষের ওপর, যাঁরা মাঝে মাঝে ছাড় দিতে রাজি।
আপনাকে কী মূল্য দিতে হয়
প্রতিবার ছাড় দিলে আপনার নিজের প্রয়োজনগুলো নিঃশব্দে হারিয়ে যায়। অন্যরা হয়তো আপনি কী চান তা জিজ্ঞেস করাই ছেড়ে দেয়, কারণ যেকোনো কিছুতেই আপনাকে রাজি বলে মনে হয়। ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ জমতে পারে, আর ক্লান্ত বা উপেক্ষিত লাগতে পারে, অথচ কোন মুহূর্তে গোলমালটা শুরু হলো তা বলতে পারবেন না। কেউ কেউ সুযোগ নেবে, কারণ তারা জানে একটু অপরাধবোধ জাগানো বা একটু তোষামোদই হ্যাঁ আদায়ে যথেষ্ট। আপনার আইডিয়াগুলো হয়তো কখনো আলোচনায় ওঠেই না, যা শুধু আপনার নয়, সবার ক্ষতি। আর শেষমেশ যখন আপত্তি তোলেন, মানুষ অবাক হতে পারে, কারণ তারা কখনো জানতই না যে কিছু গোলমাল ছিল।
পরিসর বাড়াবেন কীভাবে
হ্যাঁ বলার আগে একটু থামুন। দেখে জানাবেন বললে নিজেকে জিজ্ঞেস করার সময় পান, আপনি সত্যিই চান কি না। ছোট, সৎ পছন্দগুলো বলার অভ্যাস করুন: কেউ যখন জিজ্ঞেস করে কোথায় খাবেন, তখন যেকোনো জায়গা হলেই চলবে, এমন না বলে একটা জায়গার নাম বলুন। না বলার একটা সদয় অথচ স্পষ্ট উপায় শিখে নিন, যেমন এবার পারছেন না কিন্তু আশা করেন সব ভালোভাবে হবে, আর লম্বা ব্যাখ্যা ছাড়াই সেটা ব্যবহার করুন। যখন ছাড় দেন, সেটাকে নিজের বেছে নেওয়া হিসেবে বলুন, যেমন এবার খুশি মনেই তাঁর মতো করে করছেন, যাতে সেটা চোখে পড়ে আর একদিন তার প্রতিদানও পান। আর মনে মনে একটা হিসাব রাখুন: নিজের প্রয়োজন যদি কখনোই প্রাধান্য না পায়, তাহলে এবার সেটা চেয়ে নেওয়ার সময়।
যে প্রতিপক্ষরা এর পরীক্ষা নেয়
এই তিন প্রতিপক্ষ জানে না বলা আপনার জন্য কঠিন: একজন অপরাধবোধ জাগিয়ে চাপ দেয়, একজন প্রশংসা দিয়ে, আর একজন আপনার সব কাজ যাচাই করতে চায়, তাই প্রত্যেকের সামনেই আপনাকে নিজের সীমা ধরে রাখতে হয়।
খোঁটাবাজ
তার সমস্যা হয়ে যায় আপনার অপরাধবোধ।
এই প্রতিপক্ষের সঙ্গে অনুশীলন করুনচাটুকার
আবদারের ঠিক আগে আপনাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবাসে।
ব্রাউজারে ফ্রি খেলুনমাইক্রোম্যানেজার
আপনাকে পুরোপুরি ভরসা করে। সবকিছু দুবার যাচাই করে।
ব্রাউজারে ফ্রি খেলুন